তাপস গঙ্গোপাধ্যায়

স্নেহকাতর মাস্টারমশাইদের আছড়ে ভাঙব ওই কালো মেহগনির টেবিল-ওপরেথিতু গ্লোবটিকে।গ্লোবাটি পুরনো নয় খুব বেশি,যখন কিনে আনা হয়েছিল সেটিকেতার চারকোনা মসৃণ বাক্সে ছিল খয়েরি রক্তের দাগ,আমার স্মৃতিতে খয়েরি রক্তের দাগ রয়ে যায়রয়ে যায় তার স্থিতিজাড্যতা।এ যেন বরাহমিহিরের কাল থেকে একভাবে আছে বলে…

Comments Off on তাপস গঙ্গোপাধ্যায়

পথ হেঁটে যায়…

- সন্তোষ মুখোপাধ্যায় আমার কথাঃ কিঙ্কর ছোটবেলা কাটতেই—ঘরের দেওয়ালে দেবদেবির ছবিতে চোখ টানতো। ভালো লাগতো। — কপি করতাম। একটি ছবি—তো কী ধাক্কা তাতে!— ওঁ—এর রাধাকৃষ্ণ—যুগলমূর্তি।অনেক পরে রবীন্দ্রনাথের গানেও তাকে পেয়ে গেলাম—‘মূর্তি তোমার যুগল সম্মিলনে সেথায় পূর্ণ প্রকাশিছে।’ কি এক বিস্ময়!…

Comments Off on পথ হেঁটে যায়…

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

বয়স জলের রংটি সবুজ এবং কালচে(যেন) বিছিয়ে রয়েছে মনোরম এক গালচেভাসমান দুটি পরিযায়ী হাঁস আঁকাতারপরে আর কিছু নেই… শুধু ফাঁকা। ওইদিকে গেলে আকাশ ছুঁয়েছে সন্ধেসারস ডাকছে মাছেদের ভাইবোনদের।রোজ দুই বেলা পার হয়ে যাই খাঁড়িজলের প্রকৃত পাশে আমাদের বাড়ি। আমরা দুজনে…

Comments Off on সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

কমলেশ পাল

না-ভেবে ছুড়েছি জাল না-ভেবে ছুড়েছি জাল, চাঁদ ফেঁসে গ্যাছে। জালে ম্যালা জ্যোৎস্না-চাঁদা, নক্ষত্র-মৌরলাছাড়াতে পারছি না আমি। টানাটানি হলেঘাই ছিঁড়ে যাবে। থাকো তবে জাল থাকো, এভাবে আকাশে গোল হয়ে। আমার অনেক হয়ে আছেঃনারী ও পুকুর-ঘাট, জলসেঁচি, কুটুম্ব-পাখিরা…খালুই আতিথ্য নিতে আর পারছে…

Comments Off on কমলেশ পাল

প্রসূন মজুমদার

ধূসর, ধূসরতর ১. কী দেখতে চাইছ তুমি ক্যামেরার লেন্স জুম করে—ক্ষমা চাইবার জন্য প্রস্তুত ছিল না কোনও মুখ জেব্রা ক্রসিংয়ের সাদা রঙেহালকা কিছু ছোপ পড়েছিল—লালের শিল্পের, কৃষির বিপ্লব গিয়েছে বুঝি ওই পথে?আত্মহত্যার সমৃদ্ধি যোজনা! কতদূর দেখতে চাইছ তুমি ক্যামেরায়?তুমিও মেনেছ…

Comments Off on প্রসূন মজুমদার

ডায়েরির ছেঁড়া পাতা থেকে

- তমোনাশ ভট্টাচার্য মৃত্যুর আগে-পরে মাছরাঙা যেভাবে জলে ঝাঁপ দেয়সেভাবেই ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে এই নগরীতেএখনও হেমন্ত রয়ে গেছে,যদিও শহরে তার কোনো চিহ্ন নেইতবুও সন্ধ্যা নামে, দ্রুত, অন্ধকারে সন্ধ্যা নামে আকাশের গাএ,গোধূলির সবটুকু আলো শুষে নিয়েমেঘেরাও ঘরে ফেরেধূসর বাড়িগুলো, ধূসরতর…

Comments Off on ডায়েরির ছেঁড়া পাতা থেকে

সুধন্যা

 সঞ্জীবনী ফিরিয়ে দেওয়া কঠিন ছিল না তত…ছুঁতে পারা তীরে নৌকাডুবির দাহ!পায়ের বিলাপে নোঙর বাড়ালো ক্ষত…নিরবধি, তাও জেগে ছিল আগ্রহ! দেরি হয়ে যায়, মাঝির বারতা শুনি;ডুবছে ভাসছে, এসেছে কখনো কাছে…নির্জন ভোরে অবহেলা খুঁজে গুনি..যেটুকু পেলাম তাই কী ফেরাতে আছে! দিনান্ত পথে…

Comments Off on সুধন্যা

নীলাঞ্জন দরিপা

 দু – একটা অত্যুক্তি ১ লিখতে লিখতে ঝড় উঠেছে লিখতে লিখতে রক্তএখন কাঁধে বইতে পারা এমন কী আর শক্তঅনভ্যাসের ফোঁটার মতোসুখের পুঁতি ইতস্ততচড়চড়ালো মালার বুকে, দুঃখতে আসক্তবুকে বেদন সইতে পারা এমন কী আর শক্ত লিখতে লিখতে যেমন ফোটে দু-একটা অত্যুক্তি…

Comments Off on নীলাঞ্জন দরিপা

মালা চক্রবর্তী

 আষাঢ় আষাঢ়! চির আকুতির আষাঢ়!সমস্ত দহন তোমাকেই সমর্পণ।ভুল পথে কেন এমন হারাও!কিছুতেই ছুঁতে পারি না তোমায়। পথে পথে খুঁজে মরিআঁচলে লুকানো বকুলগন্ধী মালাপরাবো বলে তোমার গলায়। জানি, আমাদের কখনও সংসার হবে নাথাকল শুধু …পথঅনন্ত পথ—একদিন দেখা হবে ঠিক সেই পথে।…

Comments Off on মালা চক্রবর্তী

নির্মল হালদার

শাল-পিয়ালের‌ চিঠি কলকে ফুল গাছের মাথায় কে গুঁজেছে ফুল? খোঁপা তো নেই, গাছের মাথায় ফুল কে গুঁজেছে ফুল? কলকে ফুল ভিজতে ভিজতে ইশারা করে কাকে ইশারা করে? বৃষ্টিতে ভিজছে আষাঢ়ি শবর। নদী জলে ছোঁ মেরে উড়ে গেল বক নদী উদাসীন…

Comments Off on নির্মল হালদার