আষাঢ়
আষাঢ়! চির আকুতির আষাঢ়!
সমস্ত দহন তোমাকেই সমর্পণ।
ভুল পথে কেন এমন হারাও!
কিছুতেই ছুঁতে পারি না তোমায়।
পথে পথে খুঁজে মরি
আঁচলে লুকানো বকুলগন্ধী মালা
পরাবো বলে তোমার গলায়।
জানি, আমাদের কখনও সংসার হবে না
থাকল শুধু …পথঅনন্ত পথ—
একদিন দেখা হবে ঠিক সেই পথে।
সেদিন ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যেই ইঁটখোলার মাঠে রামধনু নেমে আসবে।
তোমার ধূপছায়া উত্তরীয়তেও লেগে থাকবে সেই আভা।
ওদিকে; শুকোতে দেওয়া কাপড় চোপড় ভিজতে থাকবে তারে।
কয়েকটা ছাতার পাখি বৃষ্টির জমা জলে স্নান করা থামিয়ে
অবাক চোখে দেখবে—
রামধনু সিঁড়ি বেয়ে কে যেন মিশে গেল
আষাঢ়ের মেঘে।
স্মৃতিরা
কিছু স্মৃতি বোবা হয়ে
ঝুলে থাকে ফটোফ্রেমে।
নিরন্তন পত্র মোচন তার।
কিছু স্মৃতি বুকের ওমে
শুঁয়োপোকা থেকে প্রজাপতি হয়।
স্মৃতিরাও খোলোস বদলায়।
স্মৃতির আতিশয্যে বেড়ে গেলে জল
ভিজে যায় ভেতর ঘর।
ক্ষয়িষ্ণুতা জুড়ে ব্যথার স্তব্ধ সরোবর।
না শেষ হওয়া গল্প
আমাদের গল্পটা শেষ হয়নি এখনো।
এতগুলো বছর অপেক্ষায় আছি
আর একবার অন্তত মুখোমুখি দাঁড়াবো আমরা।
খোলা আকাশের মতো নীরব সম্ভাষণে
মেলে ধরব আমাদের অতীত যাপন।
না কোনো অভিযোগ
না কোনো সম্পর্কের কাটা-ছেঁড়া, অথবা
দোষ-গুণের সূক্ষ্ম মূল্যায়ন।
মননের নিরক্ষীয় তল বরাবর শুধু আমরা নিরুচ্চারে পিছনে হাঁটবো।
পথে বৃষ্টি নামবে
বুকের উপত্যকায় বিদ্যুতের বেগে
ছুটে যাবে কিছু চিতল হরিণ।
ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন সেই চেনা সুর-‘রিম্ ঝিম্ গিরে শাওন–‘
আমরা দুজনে ভিজবো,
ভিজতেই থাকবো।
