নির্মল হালদার

শাল-পিয়ালের‌ চিঠি

কলকে ফুল

গাছের মাথায় কে গুঁজেছে ফুল?

খোঁপা তো নেই, গাছের মাথায় ফুল

কে গুঁজেছে ফুল?

কলকে ফুল ভিজতে ভিজতে ইশারা করে

কাকে ইশারা করে?

বৃষ্টিতে ভিজছে আষাঢ়ি শবর।

নদী

জলে ছোঁ মেরে উড়ে গেল বক

নদী উদাসীন

এই নদীতেই হাতি আসে হরিণ আসে
এই নদী থেকেই কুমির ওঠে ডাঙায়

রোদ পোহায়

নদী উদাসীন

এই নদীতেই সিনান করে আকাশি সোরেন।

খড়গ

জঙ্গলে গাছপালা আছে পশুপাখি আছে
জঙ্গলে চুরি করতে গেলেই
বলি হয়ে যাবে

গন্ডারের খড়গ আছে।

পিরিত

গড়িয়ে নামছে পিরিত

গরু চেনে। গা চাটে তালগাছের।

অর্জুন গাছ

অর্জুন ফল কামরাঙার মত হলেও
কামড়ানো যাবে না।
র্জুন ফল গাই-গরু–ছাগলের আহার।

অর্জুন গাছের ছাল থেকে জড়িবুটি।

রোগ নিরাময় করে জলপেশ মুড়া।

খাদ্য

একমুঠি ধান থেকে ক ‘ মুঠি চাল?

ইঁদুরের গর্তে হাত ঢুকিয়ে এক মুঠি ধান

ইঁদুরের খাদ্য ইঁদুরের কাছেই থাকুক

উই ঢিবি ভেঙ্গে সাপের খোঁজ করবে

সাপের মাংসে হাড় নাই।

নির্জন বেদনা

ভুঁইয়ে প’ড়ে চোখের জল
শব্দ করে উঠলো ঘুঙুরের মত

কে দেখবে ঘুঙুর?

কে দেখবে কান্না?

ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে জঙ্গল

একা হয়ে যাচ্ছে জঙ্গল।

বনদেবীর কাছে

ক:

পাখিকে মারার আগেই
গুলতি থেকে পড়ে গেল পাথর।
সহজ নয় পাথর, পাথর যে জটিল
সইতে পারে না বনদেবী।

খ:

পাখি শিকারির চোখে পড়লেও
কাঠবিড়ালির দিকে ছুটে যাবে না
একটি ও পাথর।

কাঠবিড়ালি দেখিয়ে দেয়
কোন্ গাছে লুকানো আছে পাকা ফল।

গ:

গাছে গাছে মাকড়সা জাল ফেলেছে
কাকে ধরবে বাছা কে জানে!
যদি ধরা পড়ে চাঁদ, ছিঁড়ে ফেলবে
জালের বিস্তার।

শিকার

ক:

অর্জুন গাছের ডালে চামচিকে ঝুলছে।
নজর করছে, পোকারা কোথায় উড়ছে, কত দূরে!

এই রাতে কোথায় যাচ্ছে শুয়োর?

লক্ষ্য করছে একটি বল্লম।

খ:

বল্লম ছুঁড়তে ছুঁড়তে যদি গাছকে বিদ্ধ করে?
যদি মাটিকে বিদ্ধ করে?
বল্লমের ফলায় দেখা যাবে যন্ত্রণা

শত শত বছরের যন্ত্রণা। 

গুহাচিত্র

গুহার গায়ে যা যা আঁকা
সেও তো যন্ত্রণা অথবা ব্যথা বেদনার
এক একটি ফল

শত শত বছর ধরে পেকে উঠেছে।

টাঁড় জমি

টাঁড় জমি

এপার থেকে শব্দ করলে
ওপারে শুনতে পাবে না কেউ

টাঁড় জমি

ঢাক ঢোল বাজালে
শুনতে পাবে আকাশও।

পূর্ণিমা

মৃদু ছন্দে পাতা নাচ
মৃদু লয়ে কেঁদরিও বাজে
বাঁশিও করুণ

গুমরে গুমরে ওঠে তল উপরের মাটি

হাতে হাত ধরে হাওয়া

পূর্ণিমার জাগরণ।