অর্থহীন তবু চাঁদ উঠে

– তাপস গঙ্গোপাধ্যায়

বন্ধুতার বেশে মোহ যারে ধরে এসে সে বড়ো সাংঘাতিক

আধুনিকে ধর্মের এই ছদ্মবেশ, ওরা আমাদের থেকে যারা

শ্রমের প্রহরী, যারা তৈরী করে ঘন্টা ও দীপ ঘন্টাধ্বনি করে

হৃদয়শীর্ষে আকাশপ্রদীপ জ্বালে ভাসায় গঙ্গায় প্রেমের শ্রমে

মুগ্ধ যে সকল মানবমানবী সেই লক্ষ কোটি জনতার থেকে

শিখে নিয়েছে কষ্টে ক্যামারাডারি শব্দটি, তর্জমা করেছে

হাজারো ভাষায় সে সকল তর্জমাকারীর অনবধানতায় হায়

আমাদের সন্ধ্যা টেরে গেল আমাদের চেতনা জুড়ে

শুধু ভুলভাল রাত্রির আলিম্পন প্রসাদভোজনের বিবিধ

সুবিধাদি বিষয়ক পাঁচালি ভাঙাগান সমুদ্রযাত্রা শেষে কবে

ফিরবে বণিক সেই আর্তির মেয়েলি ব্রতের যাত্রার

বিনিময়ে আমরা পেলাম স্থিরজলে বুড়িকাটা একটি রাতের

প্রলম্বন (এক প্রলম্বিত ঔপনিবেশিকতা অগাস্টে, জল-জমি-

জঙ্গল গেল কোন যাদুবলে যখন প্রশ্ন করি নিরুত্তর

এখনের প্রতিটি পীর শালগ্রামশিলা একটি বালক

আমায় হয়ে-ওঠার প্রসেস শেখায় সেই শিক্ষককে ক্ষমা

করবার ভাষা ভঙ্গিমা ও বিলাসিতা আমি হারিয়ে

ফেলেছি বহুদিন, কেননা আমার রুমালটি আমি

হারিয়ে ফেলেছি, এখন আর পোকায় কাটবে কোন বস্তু

আমার, অনুগ্রহলোভী প্যাণ্ডিটদের শব্দার্থসংগ্রহে ব্যাখ্যায়

বিস্রস্ত নীলিমা ক্লান্ত পদরজ ধূলির প্রাকার, এই ক্লান্তি আমাদের

জীবনানন্দের সাম্প্রতিকের উত্তরাধিকার মহাশয়! খাঁচার পাখি

গান গায় প্রাণমন ঢেলে, গায় সে স্বাধীনতার গান, সে শুধুই

মায়া নয় মহাশয় তোমরা আমরা জানতেই পারি না

কমনে সে আসে যায়! চেতনার কোন রৌদ্রদীপ্ত সুড়ঙ্গের

জানালা ধরে! অতঃপর আমরা মুক্ত হলাম ভবিষ্যে

কথোপকথনে উৎসে ডানায় শিকড়ের, সারমেয় সত্য হলো

এক মহাভারতীয় সভ্যতায় সুকুমারী পাঠে, উদারবাদী

নয়া জমানার শেষ ঘোষণা করবার সাগ্নিক কোথায়!

কোথায় সে যে শেষ পেরেক ঠুকবে জাতমানকুলবর্ণ বিহীন

সংস্কার বিহীন নতুন সামাজিক সংস্কারগুলি তারপর বুঝে

নেওয়া যাবে, কেশকম্বলীর প্রতিনিয়ত কেশের কম্বল পরে

থাকাটাই ছিল সংস্কার তজ্জনিত কুটকুটজ্বালা সংস্কার

কৃচ্ছ্রতাসাধন, এই সহজসত্য প্রমাণের যে ভগবান ঈশ্বরটিশ্বর

কিছু কোথ্থাও নেই ব্রহ্মাণ্ডে জম্বুদ্বীপে, তদুপরি সবুজের

মহিমা ছিল তখনো, হরেক রঙের পুঁতিগুলি ছিল, হয়তো

বা তা মেসোপটেমিয়া আনীত, মাটির অনেক গভীরে

(এই বাংলার বা দক্ষিণের গভীরের চর্চা বিঘ্নিত বা

শুধু মুলতুবি বন্ধই থেকে গেল, এ কোন এ কেমন এশীয়

সমাজস্থ মনের আকাশের প্রতি কৌতুহল নিক্ষেপ!) তুমি

আমায় কী বোঝাবে বিদ্যার ফেরিওলা, কী বোঝাবে

প্যাণ্ডিট কিংবা নিঃশব্দ অবলম্বনকারী প্রকৃতজ্ঞানীর দল,

আমাদের তো বোধি হয়ে গেল প্রেমের অচর্চায় কিংবা

প্রেমেরও বিহনে,আমাদের দিবসরাত্রিযাপনে পেচকই সত্য

একমাত্র সত্য হয় তো নয়, কোনো উত্তরসত্যই পারে না

টলাতে এই প্রতীতি এই প্রত্যয় নিঙড়ানো যাপনের নব্যপ্রস্তর

যুগের সঞ্চয়ের কন্টিন্যুয়িটিজাত নয় আমার বন্ধু

ভোলাদার, ভোলাদার মরে যাওয়া। মাঝেমাঝে তার

মৃত্যুউত্তরকালীন পা দুটিও ফুলে যাচ্ছিল অবিরাম মনে হয়

(আমার জুটশ্রমিক ভোলা বিশ্বাস ছিল বিগ

কন্টিন্যুয়ামের একটি ব্যতিরেক। তার মৃত্যু কোনো

ব্যতিরেকবিহীনতাকে সূচিত করে না। অ্যাণ্ড হি ইজ নো

একসেপশন।) এই প্রাচীন ব্রাহ্মণ্যশাসিত পল্লীগুলিতে, কিছু

কাছে কিছু দূরে যেখানে পাট বা কাগজের পর বা ইস্পাতের পর

কিছু কাছে কিছু দূরে আইটি সেক্টরের পর

নবোন্মেষিত যুবারা হয় ভিনদেশী নিকষিত হেমের

সন্ধানে, অথবা বাইকবাহিত বহুজাতিকের কারবারি,

আসলে তারা গতরখাটানো মজুর স্বীকৃতিহীন শ্রমের

দাবিতে লড়ে। আরো একপক্ষ আছে শুধু ধনাঢ্য পশ্চিমে

নয়, দেশে দেশে মেহনত বেচতে যায় যারা সীগালের মতো

পেলিক্যানের মতো (আমি সদ্যকৈশোরের চিড়িয়াখানায়

অজস্রপাখির মধ্যে সীগাল বা পেলিক্যান দেখেছিলাম

নিশ্চই মনেও পড়ে না, তার বাইরে শুধু ছবিতেই দেখেছি)

অথচ মিস্টার মতো, এখনো কালের নিয়মে অমোঘ

ব্যত্যয় রয়ে গেছে এক, কেননা দেশগত বিভেদ অলীক অসার,

শেষহীন মহাকাশজিজ্ঞাসা সমুদ্রজিজ্ঞাসা নিয়ে আমরা চলে যাব,

কোথায় কোন অপারে ,আমাদের কন্টকিত স্মৃতির অপারে

ভেসে উঠবে তীরভূমিতে ভেসে আসা শিশু তার শেষ

অপূর্ণ বাক্যসমেত, আমি ভগবানকে সব বলে দেব, পেচক

পেচকই সত্য দিনের রাতের জঠরে, বুঝলে হে বিদূষক

এবং এক ড্রেন লম্বা হয়েই চলেছে… ভগবানের মৃত্যুর পর,

ঈশ্বরের মৃত্যুর পর, বহুধাবিস্তৃত বুদ্ধের যানগুলি তামাদি হবার

পর, পার্শ্বনাথ আর তাঁর জৈন অহিংসা সম্বল শুধু

সীমাহীন সচ্ছলের, অশীল মানুষের প্রবৃত্তি সংযম!

ঘোড়াতেও হাসে, হ্যাঁ এখনো হাসে হয়তো চার্বাকেরা ছিলেন

তাঁদের চর্চায় নির্দেশে কয়েক দণ্ডের শান্তি পেতে পারত

এ দেশের ভুখারুখা মানুষ পথের কিন্তু ব্রাহ্মণ্যের

অভিসম্পাতে প্রতিহিংসায় ক্রূরতায় পুড়ে গেল তাঁহাদের

সমূহ পুঁথির সম্বল, আজ আমাদের আঁখি নির্নিমেষ চেয়ে

থাকে সেইসব আলোর ভিক্ষুর দিকে যাঁরা ভিক্ষাবৃত্তি

গ্রহণ করেননি রাজন্যের, আমাদের স্মৃতির নব্যন্যায়ের

কোনো ন্যায়ই ছিল না ফলত কল্পনার ন্যায় সান্ধ্য ধোঁয়াশায়

রুদ্ধ করে, এবং পথের ক্লান্তি, দিনের রাতের মাথায়

পেচকের ডাক, এবং একটি ড্রেন সঠিক নজরে প্রশস্ত বেশ,

নৃত্যপর মহিলারি পাগুলি থমকে রয়েছে, বিস্মরণে

চলে যাচ্ছে মুদ্রা, বন্ধু কি সাহায্য করবে না

পারস্পরিক আলোর নিমিত্ত বিনিময়ে তদুপরি সন্ধানে …

… ওনলি ওআর্ডস রিমেন … সাউন্ডস