অম্লান বিশ্বাসের গুচ্ছ কবিতা

বৃষ্টি চাই

একথা বলতেই পারি আমি বৃষ্টি চাই
এখানে টিনের চালে ওখানে টালিতে
শব্দ তাল মিশে গেলে ঝড়ের সওয়ারি
নিভৃত স্পন্দন জাগে গভীর রাত্রিতে

ঝড়ের দাপটে যেই আলো নিভে গেল
কালো চাদরের মাতো আঁধারের স্তর
একাকী শব্দের টানে নির্দিষ্ট নিশানে
উঠোনে ছড়িয়ে রেখে কিছু ফুল মালা
কী প্রবল গতি যেন নিমেষ হারানো
সবকিছু ফেলে রেখে হাহাকার ডানা
জড়ালো তোমার মুখ, রাত্রি ঘুমালো

একথা বলতেই পারি আমি বৃষ্টি চাই
এখানে টিনের চালে ওখানে টালিতে
শব্দ তাল মিশে গেলে ঝড়ের সওয়ারি
নিভৃত স্পন্দন জাগে গভীর রাত্রিতে।

তুমি যাও

তুমি যাও
এই আলো, এই ছায়া, আগুনের পথ
পিছনে চেয়ো না আর
অনেক বিঁধেছে কাঁটা, অনেক ধূলায়
তোমার আনন্দ গান ঢাকা পড়ে আছে
সেদিকে চেয়ো না আর
ফুটেছে আমের বোল, ঝরে পড়ে মধু –
এক ফোঁটা নিয়ে যাও
সামনে আনন্দ পথ, আলো মাখামাখি
এক পল মধুমাখা আলো রেখে –
পিছনে চেয়ো না আর,
তুমি যাও।

ডুবে যাওয়া ভালো

সূর্য জানে ডুবে যাবার আগে ঢেলে দিতে হয় রঙ
সারা দিন দৃষ্টি পোড়ানো রোদ
বা হৃদয় ভেজানো বৃষ্টি, যাই হোক
বিকালে মেঘের বেনারসী আঁচল উড়িয়ে আতৃপ্ত আলো
কুসুম-আদর যত্নে মুছে দিয়ে জমকালো
ডুবে যাওয়া ভালো

ট্রেন হুইসিল্ দিল, প্ল্যাটফর্ম দূরে সরে যায়
অন্ন-গন্ধী মাঠ ওই সবুজের করতালি মাখা
হাওয়া লুটোপুটি খেলে তোমার ধারালো চিবুকে
গোধূলি অহংকার নির্দিষ্ট শস্যের গান গায়

প্রসাদ চিহ্ন ছড়িয়ে রেখে ঠোঁটের কিনারায়
অকুতোভয় স্বপ্ন হারায় ময়দানে ঝঞ্ঝায়
ডাক দিয়েছে কিম্বা দেয়নি পথিক মানে না
তুলসী তলায় আনত দিন মগ্ন ইশারায়

কত পথ সরে গেল আরও কত পথ বাকি আছে
আর কত কাঁটা বা কাঁকড় রক্ত প্রেম ঘামের দাবীতে
অহল্যা-অপেক্ষার ক্ষণ হয়ে লুকানো প্রাণের সরণীতে-
যেমত পদ্মে সাপ কখনো বা স্মৃতিচারী বিষবহ বিছে

স্পষ্ট জানে ডুবে যাবার আগে
সারা দিন দৃষ্টি পোড়ানো রোদ
বা হৃদয় ভেজানো বৃষ্টি, যাই হোক
যাবতীয় খুশি মেলে ধরে
আতৃপ্ত আলোর আঁচল ছেড়ে যেতে হবে
পথের কালোতে।

মূর্খ বাঁচি

মূর্খ বাঁচি বোকামিতে ডুবে
জল ধরি বিন্দু ঝরে পড়া
সুঠাম পাতার মতো ভোরে
আকাশে তোমার অন্তরা

উঠোন অতীত হলো কালে
দাওয়া ঢাকি খেজুর পাটিতে
সামাজিক ছিল না তখনো
ভেজা চোখ নোয়ানো মাটিতে

বৈশাখ – ডাকিলে আষাঢ়

কতোটা ফারাক হলো দিনে
ভেবেছি শিউলি রঙ ব্যথা
কিনে নেবো অনন্ত পার্বণে

চারিদিকে কতো বেড়া বাঁধি
এগনোর পথে খোঁড়াখুঁড়ি
বেড়ার ওপারে যাওয়া ভোর
একাকী অপেক্ষায় সিঁড়ি

পকেটে কি পারানির কড়ি
সঞ্চয়ে সামাজিক ক্ষণ
চোখ বাঁধা পাতা ঝরে গেলে
খুঁড়ে নিও শিকড়ের মন

মূর্খ বাঁচি বোকামিতে ডুবে
জল ধরি বিন্দু ঝরে পড়া
সুঠাম পাতার মতো ভোরে
আকাশে তোমার অন্তরা।

যদি চাও

হাত ছেড়ে চলে গিয়েছিলে
সে কবেকার কথা-
তবু এই তালু তর্জনীতে
গভীর চোখের মতো ছোঁয়া লেগে আছে

আধেক দিনের গানে পৃথিবী হারালে
রক্তমুখী ইচ্ছেগুলো তোমার লকেটে

হাত ছেড়ে চলে গিয়েছিলে
এবং আবার ফিরে আসোনি প্রভাতে
কিছু আলো মেখে
উদ্দাম ঠোঁটে রেখে ঈষৎ করুণা

এ বিরাট সময়ের আনাচে কানাচে
আমার অ-কূল সুর অযথা ছড়ানো
আবক্ষ নেশার মতো সময় ছিটানো
কুড়িয়ে দিয়েছি সব তোমার আঁচলে

তবুও তো আছে কিছু, রয়ে যায়
ভুল জ্যামিতির খাঁজে, অগোচরে
বিষন্ন পাতার মাপে অনন্ত ইজেলে
যদি চাও তাও দিতে পারি

হাত ছেড়ে চলে গিয়েছিলে
সে কবেকার কথা-
তবু এই তালু তর্জনীতে
গভীর চোখের মতো ছোঁয়া লেগে আছে।