গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা

মাছি উড়ছে খুব

খুব মাছি উড়ছে ঘর বারান্দায়
ওরা কি অসুস্থতার গন্ধ পায়?
ফিনাইল ঢালছি মেঝেতে, ফল পাচ্ছি না
দুর্গন্ধ যাচ্ছে না

এতো মাছি কোথা থেকে এলো?
কখন জন্মালো?
পায়ে যদি এইটুকু পুরীষ থাকে, তাও
নষ্ট হতে পারে সব খাদ্যের সঞ্চয়

তবে কি দরোজা বন্ধ করে দেবো?
পাপোশে একটু কেরোসিন ছড়াবো?
জানলার পাশে পতঙ্গভুক ধূপ
ব‍্যস! মাছিরা সবাই চুপ…

আমার কী হবে এখন, সঞ্জয়?
ভিতরে জমানো হাড়, দরজা খুলতে ভয়
করে খুব, নেহাৎ দেখতে পাই না তাই
ভাবি খোলা আছে সব জানালাই

ভয় করে খুব, পুনর্বার দৃষ্টি এলে
যদি মনে হয়, এ-চোখ বিফলে
গিয়েছিলো বলে ভালোই ছিলাম…
মাছিকে ভেবেছি পাখি, ভুল মানলাম

খুব মাছি উড়ছে ঘরে ও নিহত বারান্দায়
ওরা কি মনখারাপের গন্ধ পায়…

অন্ধ আমার

কীভাবে ও-পথ নদীতে ভাসান, শেষ
মেঘ ডাকলেই বিদ‍্যুৎ নামে হয়তো
জল বললেই ঘর ডুবসাঁতারের দেশ
অন্ধ আমার চীৎকার শুধু জ‍্যান্ত

প্রতিরেখ কথা লিখেছি কি কক্ষণো?
সন্দেহ চাবি প্রতি মন্দিরে রাখি
সব সিঁড়ি পিচ্ছিল, শনিবারে, জানো
নিয়ম মেনেই জিভে নিরামিষ মাখি

যারা ঢুকে যায়, সন্ধ্যায়, ঝুলন খাঁচায়,
তাদের পাত্রে ছোলা ও হাঁসের মন
শীতাতপ, আর গোলাপ-বিড়ম্বনায়–
গরাদ এখনো খুব শৃঙ্খলা-পরায়ণ

নির্মোক উড়ে যাক জলছলছলতায়
আমার নৌকো ভাসিয়ে দিলেও চলে;
লবণ লাগলে পাড়ে, সে শুধু স্রোতের দায়
মাটি কেঁপে ওঠে নদী উল্টোলে

কারা দিনরাত বৃথা গর্জন করে যায়
কারা রাতদিন শুধু ভুল মুছে যায়,
অন্ধ আমার চীৎকার শুধু জ‍্যান্ত
মেঘ ডাকলেই বিদ্যুৎ নামে হয়তো

গোধূলি

আলোরেণু, আকাশের পুষ্পপাত্র থেকে
ধীরে ঝরে পড়ে অলীক উঠোনে
স্তবের মতন

বাউল গোধূলি, রাঙা একতারা হাতে,
দিনান্ত আলাপ লেখে সন্ধ‍্যার পাড়ে
জলের মতন


সেই সব রোদ্দুর

এভাবে কখনো থাকা যায়; বলে
উড়ে যায়, পাখি হয়ে যায় সব
ওড়া আর ফেরা, আর বলেছিলে
জল দিলে পথ অবয়ব, অবয়ব

গাছ দেখলেই ছায়া নেচে ওঠে
পাতার দেহেও জলগাজনের ভুল,
এতো ভিজে এলে শরীরে কি ফোটে
ঢেউ আর কিছু পালকের মাস্তুল

এতো সব কথা সাজানো ঘড়ির কাঁটা
সাজানো ছন্দে সময় ভেজেনি তাই
বৃষ্টি শুধুই আল্পনা-জল, ভাঁটা
আমার নৌকো গরমে যাচ্ছেতাই

গরম পেরোলে সরকার গড়া হবে
নিঃশ্বাসে পোড়া গতজন্মের তাপ
পোড়ামুখ, সব ছাই বলে মাখবেই…
আমার লেখায় শুধু আপোষের ভাপ

সূর্য তবুও বাজে কোমলে, চড়ায়
রোদ্দুর উঠে আসে লুকানো ভেলায়

ছায়া পড়েছে

যদি ছায়ার কাছে যাই…
ডাকলি বলে বলছি তোকে
এখানে আমি নাই

ছায়ার মধ্যে যাই…
নিজের অতীত পথের পাশে
হাত পাতলেই পাই

তবু, ছায়ার কাছে যাই
ফেরার পথ রকমবাহার, রথে
সুভদ্রাকেই চাই

ছায়ার কাছে শিখি
কীভাবে নখ লুকোনো থাকে
যখনই ফুল লি

যদি ঝড় আসে

যদি ঝড় আসে

তবে ঝড় আসে

এরপর ভোট আসে

ফলাফল উড়ে যায়

যথাযথ রাত্রি এল
এক বোতলের ছায়া
সরে যায়, সরে যায়
বিভ্রম..

কে যে কার ছায়া…

কায়া গোনা হবে কাল

চিরাগখেয়াল