গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়-এর গুচ্ছ কবিতা

সন্ধ্যা হয়ে আসে

তুমি তার ডুবে যাওয়া জানো?
দেখেছো কখনো, কীভাবে আঁধার
শরীরের কাছে আসে…

সন্ধ্যা হয়ে আসে

তুমি তার ডুবে যাওয়া জানো?
দেখেছো কখনো, কীভাবে আঁধার
শরীরের কাছে আসে…

কতো কিছু রয়ে যায়
মোহ আর আগুনের
মাতাল কোটরে, বাউল পাতায়

ইতিমধ্যে বৃষ্টি নামে, গাছকে ভেজায়

সেই সব জলস্নান, তুমুল বৃষ্টিতে
পায়ে-চলা-পথ ভেঙেছিল বলে
হাতে গড়া এক লাজুক ভেলাই ছিল
ভেসে যাওয়া, আর ফেরার অছিলা;
স্রোতের ভিতরে, এ-ওকে ধরে
সাঁতার সাঁতার খেলা সন্ধ্যাগভীরে

সন্ধ্যার আগে
শুধু তো হরিণ ফেরে না,
বহুতর শ্বাপদেরা পদচিহ্ন চেনে…
ইতিউতি আঁধারের বনে বর্ষা আসে
সমতলে ওরা আসে না; তবু
মনে পড়ে ওর তো কথাই ছিল
ফিরে আসবেই, হয়তো অসুখ হয়ে
হয়তো নীরবে, ছেলেবেলা হয়ে
আসেনি বলেই মনে হয়
হয়তো একেই ফিরে যাওয়া বলে

হয়তো বা সব আগুনের চোখে জল থাকে

হয়তো শিউলি এভাবেই ঝরে দেহের বাগানে

কলাপাতা গ্রামে স্থির দুখ্খু পুকুর…
ওর পাড়ে স্নান জমা হয়;

ভেলা ডুবে গেলে পানডুবি মাঠে
টুপটুপ ঝরে যায় এ-ওকে বাড়ানো দুহাত

জল এতো উদাসীন, তুমি তার
গভীরতা জানো? দেখেছো কীভাবে
প্রদাহের অবসান হয়…

কিছু তার বুক-তোলপাড় আঁধি

বাকী সব স্বমোহ-সমাধি

পুনশ্চ

ভঙ্গিতে এসো না আলোতে
ছায়া এতো ম্লান করে দেয়
ছবি তার কিছুই জানে না…

বরং সহজ হও…

গোলাপে পতঙ্গ হও,
কাঁটা শুধু মানুষের জন্য

কাঁটা অতি, মানুষের জন্য

খেলা

একটা তেমন কলম পেলে
কবিতা লিখতাম…

লেখা থাকতো, খেলা শেষ হলে
বাঁশি নয়, শেষ নয়,
আমি পড়ে থাকি মাঠে

আমি হেরে গেলে
তবে খেলা শেষ হয়

কতো কিছু রয়ে যায়
মোহ আর আগুনের
মাতাল কোটরে, বাউল পাতায়

ইতিমধ্যে বৃষ্টি নামে, গাছকে ভেজায়

সেই সব জলস্নান, তুমুল বৃষ্টিতে
পায়ে-চলা-পথ ভেঙেছিল বলে
হাতে গড়া এক লাজুক ভেলাই ছিল
ভেসে যাওয়া, আর ফেরার অছিলা;
স্রোতের ভিতরে, এ-ওকে ধরে
সাঁতার সাঁতার খেলা সন্ধ্যাগভীরে

সন্ধ্যার আগে/
শুধু তো হরিণ ফেরে না,
বহুতর শ্বাপদেরা পদচিহ্ন চেনে…
ইতিউতি আঁধারের বনে বর্ষা আসে
সমতলে ওরা আসে না; তবু
মনে পড়ে ওর তো কথাই ছিল
ফিরে আসবেই, হয়তো অসুখ হয়ে
হয়তো নীরবে, ছেলেবেলা হয়ে
আসেনি বলেই মনে হয়
হয়তো একেই ফিরে যাওয়া বলে

হয়তো বা সব আগুনের চোখে জল থাকে

হয়তো শিউলি এভাবেই ঝরে দেহের বাগানে

কলাপাতা গ্রামে স্থির দুখ্খু পুকুর…
ওর পাড়ে স্নান জমা হয়;

ভেলা ডুবে গেলে পানডুবি মাঠে
টুপটুপ ঝরে যায় এ-ওকে বাড়ানো দুহাত

জল এতো উদাসীন, তুমি তার
গভীরতা জানো? দেখেছো কীভাবে
প্রদাহের অবসান হয়…

কিছু তার বুক-তোলপাড় আঁধি

বাকী সব স্বমোহ-সমাধি