অম্লান বিশ্বাস

নারী

দেখা অদেখার আলোছায়া ছুঁয়ে
আমিই কি শুধু হারি –
আকাশ ছুঁয়েছে ঋজু বৃক্ষের
উদ্গত পাতা স্বাধীন
খেলা লুটোপুটি রোদের আদরে
আঁধার তাড়ানো খুশী-সঞ্চারী
নিজের উঠোনে নিজের পৃথিবী
গুছিয়ে রাখতে পারি

যা দেখিলে তুমি তাই কি চেয়েছো
ছিঁড়েখুঁড়ে গেলে বুকের আকাশ
তুলসী মঞ্চ করে হাহাকার
অসাড় চেতনা অন্ধ পৃথিবী –
এই চেয়েছিলে – ব্যর্থ পুরুষ
হারিনি আমরা এই দেখো নত
দৃষ্টি সামনে রোদ মেখে বুকে
আমার আননে এই আমি নারী।

পঁচিশে বৈশাখ

চারিদিকে শব্দ শমণের
ফাটে অন্ধকার
ছেঁড়া ত্বক অতলান্ত মাপে
অজানা প্রহার

ছিনতাই করে সুর; ভাঙ্গে ছন্দ তুলি
দোহার দেশপ্রেমে ছাড়ে ব্রজবুলি
জারুল বিবর্ণ হলে মড়কের তাপে
পাতা অক্সিজেন মাপে উন্নয়ন খাতে

চারিদিকে শব্দ শমণের
ফাটে অন্ধকার
ছেঁড়া ত্বক অতলান্ত মাপে
অজানা প্রহার

তবু এ ধূসর কাল বহে পোড়া কাঠ
নবীন আগামী হোক পঁচিশে বৈশাখ।

ছবি

তোমার কাছে কিই বা পাঠাই
যখন বিকেল সদ্য-স্নাত
চুল এলিয়ে আকাশ জোড়া
বাড়ানো হাত অনাঘ্রাত

তুলির মতো তর্জনী সেই
বৃষ্টিভেজা শহর চিরে
আঁকলো ছবি দৃষ্টি-আড়াল
রাস্তা জুড়ে ছড়ায় হিরে

দেখলো না কেউ ইতস্তত
অন্য জগত চিনলো না তাই
স্বত্ব-বিহীন এই ছবিটাই
ছোঁয় যেন আজ তোমার হাতও।

রঙ ছড়ালে সমীর

আনাচ-কানাচ এখন ঘুরি একাই
আঁধার মাখি অন্তরালে যখন
পর্দা বদল বৃষ্টি-সোহাগ আলোর মতো দেখায়
চোখের আড়াল সুর এঁকেছে হারিয়ে যাওয়া কাঁকন

হারিয়ে যাওয়া কাঁকন বেকুব রাস্তা চিনে নেয়
সোনার গান, ওদিকে নয়, মাটির পথে পা
বৃক্ষাবলী, প্রাণের পাতা চোখ ঠেরেছে আশায়
বুঝবে আগুন কেবল বাঁচে জলের কিনারায়

জলের ছাপ অঙ্গ তাপ কে যেন ওই দূরে
মাপছে মাটি রক্ত ছুঁয়ে অশ্রুজলের কবি
সবার বুকে মানুষ আঁকে মহাকালের তুলি
প্রার্থনাতে অপার্থিব রঙ ছড়ালে সমীর।।

মাধুকরী

ভ্রূপল্লব ছায়া ফেলে আশ্চর্য দুচোখে
কিছু ব্যথা সন্নিহিত তুমি জানো, আলোকিত
নিশানায় গাঁথা, ও চোখের চেরা পথে, অভিন্ন
আকাশে গান ছুঁয়ে যায় হৃদি-কল্প সুরে
কপালের ঘাম বিন্দু ধুয়ে গেলে বৃষ্টি আরোপিত
অযুত জীবন-হীরা মালা গাঁথে স্বপ্নের টানে

এবং ব্যাখ্যা দিতে ধুলোমাখা ঝরা কৃষ্ণচূড়া
পরিশ্রমী শুখা পথে ঘামে ভেজা বিকেলের মতো
নিজস্ব কোটর খোঁজে ক্ষণস্থায়ী দুরাশার ডানা
অমিত-স্বপনচারী শিশিরের জহরব্রততে
শিহরণ গেঁথে নেয় উঁচুনিচু কোকিলের সুর
পৃথিবীর সব পথে সুতরাং আমারও উঠোনে

আমার উঠোন আমি নিকিয়ে রেখেছি
চালবাটা গুলে আঁকা আলপনা বারান্দায় তাও
তক্তপোষে সুজুনি বিছানো, এসো বসো
তার আগে মলিনতা মুছে নিও কল-পাড়ে
ভিক্ষা দিতে এসো না কখনো উঠোন ডিঙিয়ে
সব নদী স্রোতধারা জানে মাধুকরী আমার আকাশ।

কথা হোক

আঙ্গুল দিয়ে আঙ্গুল ছুঁলে
কথার পিঠে কথা
হোক অনাবিল বেভুল ছাঁদে
আদর ছোঁয়া কাঁথা

হাঁটতে নেমে গর্ত পেরোও
নিজের ছন্দে পায়ের চাপে
বুঝবে মাটি তোমার ব্যথা
কোন বেহাগে, তারায় কাঁপে

বলবে ওরা চুপ ক’রে যাও
বলবে ওরা আওয়াজ তোলো
বাঁধানো ঘাট শুকনো ডাঙায়
ছিটিয়ে দেবো তোমার ভালো

আমার কথা বলবো আমি
সঙ্গোপনে তোমার কানে
ইচ্ছে ব্যথা আনন্দে তা
থৈ-থৈ-দিন সম্ভবামি
নিত্য পূজা, চিত্ত খোঁজা
কথায় আগুন, কথায় ভেজা
আমার বুকে যে সুর বাজে
তোমার তারে কথায় সাজা

আঙ্গুল দিয়ে আঙ্গুল ছুঁলে
কথার পিঠে কথা
হোক অনাবিল বেভুল ছাঁদে
আদর ছোঁয়া কাঁথা।

তোমাকে দেখেছি

তোমাকে যখন দেখেছি দূরের মেঘে
ফেলেছো আলতা অযথা মনের ভুলে
আনমনা ছাঁদে কিছু ভাবছিলে যেন
কোপাই এর জলে আয়না-বন্দী হ’লে

খুব গোপনীয় কথা কিছু ছিল নাকি
পুরনো গাছের বাকলে যে রঙ কালো
বানভাসি দিন অরক্ষণীয়ার চোখে
রেখে দিয়ে যেও অবুঝ নবীন আলো

দূরে যেতে যেতে বৃষ্টি-বাহন ডানায়
এখনো কি আঁকো ভেজা দুচোখের টান
ডানা-হীন মাটি কোপাইএর জল ছুঁয়ে
আমার শরীরে তোমার ঘুঙুরে গান।

ইচ্ছে মালা

সকাল থেকে ভাবছি গেঁথে নেবো
অসংলগ্ন চারু ইচ্ছে-মালা
কেননা ফুল বৃক্ষ আলো করে
প্রসঙ্গত বিজ্ঞাপণে ঢালা

সূর্য-আলো তখনও তীর্যক
আমিও পা বাড়াই যথাতথা
রঙ পছন্দ না হলে ঠিকঠাক
ব্যর্থ মালায় ঘটে যাবে অন্যথা

বন্ধু এসো বাড়িয়ে দিয়ে হাত
এই দিনটাও ফুরিয়ে যাবার আগে
অযান্ত্রিক স্পর্শ বুনে দিও
ইচ্ছে-মালা স্পষ্ট অরুণ রাগে